আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
বাংলাদেশের দুটি ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি ভারতে
This article is more than 5 months old

বাংলাদেশের দুটি ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি ভারতে

আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্ববর্তী টুইটার) একাধিক একাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলা হচ্ছে “নিরপরাধ মহিলা, হাত বাঁধা, মুসলমানদের দল দ্বারা বেষ্টিত, জোর করে কালেমা পাঠ করানো হচ্ছে” (,,,)।  প্রায় ২ মিনিট দীর্ঘ ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একজন মহিলার হাত বাঁধা এবং অন্য একজন তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। ভিডিওটিতে পুরো কথোপকথনটি বাংলায় এবং আরও কয়েকজন বোরকা পরা মহিলাকেও ঘরে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি কোনো ধর্মান্তরের নয়। 

শুন্য নামের একটি এক্স একাউন্ট গত ২৭ জানুয়ারি এমন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ইতিমধ্যে ভিডিওটি প্রায় ৫৮০০ বার রিপোস্ট হতে দেখা যায় এবং সেখানে প্রায় ৬৭৭টি কমেন্ট পড়েছে। ভিডিওটির সূত্র অনুসন্ধান করতে গেলে ভারতীয় ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা লজিকাল ইন্ডিয়ান এবং সংবাদমাধ্যম নিউজ টুডের ২০১৯ সালে প্রকাশিত দুটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিবেদন পাওয়া যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালেও ভিডিওটি ভারতের সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। প্রতিবেদন দুটিতে বলা হয়, ভিডিওটি পোষ্ট করে দাবি করা হয় যে বাংলাদেশে একজন হিন্দু নারীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেদনের যাচাইয়ে উঠে আসে, ভিডিওটি মূলত একটি জ্বীন তাড়ানোর ঘটনা, ধর্মান্তরিত করার নয়।

নিউজ টুডের ফ্যাক্ট-চেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশি ইউটিউব চ্যানেল ইএম মাল্টিমিডিয়া থেকে এই ভিডিওটির দীর্ঘতর একটি সংস্করণ প্রকাশ হয়েছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। যার শিরোনাম ছিল “এটি জ্বীন তাড়ানোর সেরা একটি ভিডিও। দেখুন কিভাবে একটি হিন্দু জ্বীন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো।” যদিও বর্তমানে ভিডিওটি ইউটিউবে নেই। এছাড়া নিউজ টুডের বাংলাদেশের সংবাদদাতা শহিদুল খোকন সেখানে জানিয়েছেন, ভিডিওটিতে উপস্থিত মানুষের ভাষা আঞ্চলিক বাংলার মতো শোনায়, যা মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে একই ভুয়া দাবি(,) নিয়ে ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট হতে দেখা গেছে ।  

গত ২৫ জানুয়ারি একই এক্স একাউন্ট থেকে আরেকটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায় একজন হিন্দু নারীকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। একই সময়ে টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও এই ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায় (,,,,,)। এই একাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ হতে দেখা যায় ২৫ জানুয়ারি রাত ১০টা ২৭ মিনিটে। ভিডিওটির সূত্র খোঁজা শুরু করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশ হওয়া প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের ঘটনাটি সম্পর্কে আরো খোঁজ করলে ২০১৯ সালের একাধিক পোস্ট পাওয়া যায় (,,,)। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিডিওকে নতুন করে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমসাময়িক ঘটনা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। এছাড়া হিন্দু দ্বেষা নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রথম ঘটনা নিয়ে একটি রিপোর্ট পাওয়া যায় যেখানে ঘটনাটিকে ২৪ জানুয়ারির বলে দাবি করা হচ্ছে; যদিও ঘটনাটি ২০১৯ সালের।

এই বছরের ২২ জানুয়ারিতে ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন করা হয়। রাম মন্দির তৈরির জন্য একই স্থানে অবস্থিত বাবরি মসজিদকে ভেঙে ফেলা হয়। এই নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই উপমহাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা চলমান।

আরো কিছু লেখা