তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফেসবুকে ছড়ানো এই ছবিগুলো বাবরি মসজিদের নয়
This article is more than 5 months old

ফেসবুকে ছড়ানো এই ছবিগুলো বাবরি মসজিদের নয়

তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানগুলোর অন্যতম অযোধ্যায় রামমন্দিরে বিগ্রহের ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্দিরটি যেখানে তৈরি হয়েছে ওখানেই ছিল ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি বাবরি মসজিদ। সেই বাবরি মসজিদের স্মৃতিচারণ করে অনেকেই মসজিদটির ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে (, , ) শেয়ার করেছেন। তবে শেয়ার করা অন্তত চারটি ছবি প্রকৃত বাবরি মসজিদের নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে ডিসমিসল্যাব। 

ছবি: ০১

ফেসবুকের একটি গ্রুপে এই ছবিটি শেয়ার করে বলা হচ্ছে- “বাবরি মসজিদ একদিন আমরা ফিরে পাবোই ইনশাআল্লাহ”। এ পর্যন্ত ছবিটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি ব্যবহারকারী, কমেন্ট করেছেন ৬১৬ জন এবং শেয়ার হয়েছে ২৭১ বার। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে ছবিটি বাবরি মসজিদের নয়। উক্ত ছবিটি ভারতের কর্ণাটকের কালাবুরাগি অঞ্চলের একটি মসজিদের। ‘ব্রিটানিকা’ এনসাইক্লোপিডিয়ায় মসজিদটির ছবি ও বিবরণ পাওয়া যায়।

ছবি: ০২

দুটি ছবি এডিট করে যুক্ত করা এই ছবিতে উপরের অংশটি বাবরি মসজিদের বলে প্রচারিত হচ্ছে আরেক ফেসবুক গ্রুপে। তবে ছবিটি বাবরি মসজিদের নয়, বরং ভারতের পানিপথের কাবুলি-বাগ মসজিদের ছবি এটি। ভারতের পর্যটনভিত্তিক সরকারি ওয়েবসাইট ‘হারিয়ানা ট্যুরিজম’-এর তথ্যমতে, পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদির বিপক্ষে বিজয়ের স্মরণে মুঘল সম্রাট বাবর মসজিদটি নির্মাণ করেন। 

ছবি: ০৩

ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা এই পোস্টে তিনটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যার একটিও বাবরি মসজিদের নয়। এর মধ্যে দুটি ছবি উপরোল্লেখিত কাবুলি বাগ মসজিদের আর অন্যটি কর্ণাটকের কালাবুরাগি অঞ্চলের মসজিদের। এছাড়া নয়াদিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা এলাকার একটি মসজিদের ছবিকেও অযোধ্যার বাবরি মসজিদের ছবি বলে শেয়ার করেছে অনেকে। পরে এটি নিয়ে ফটোকার্ড প্রকাশ করে ডিসমিসল্যাব।

আরো কিছু লেখা