
একাধিক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়কার রাষ্ট্রীয় দেনার পরিমাণ নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে দেখা যাচ্ছে। ভয়েজ বাংলা-এর একটি ফটোকার্ডে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় বাংলাদেশের দেনা ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল বক্তব্যে তিনি ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় ‘আসার সময়’ দেনার পরিমাণ বলেছিলেন।
‘ভয়েজ বাংলা’-এর ফেসবুক পেজে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত ফটোকার্ডে দৈনিক ইত্তেফাককে সূত্র বলে লেখা হয় “শেখ হাসিনার সময় দেনা ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা, এ বছর উপনীত হয়েছে তেইশ লক্ষ কোটি টাকার উপরে!” এই পোস্টটি সাড়ে ৬ হাজার বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।
এই ফটোকার্ড ও এর ইংরেজি ভার্সন একাধিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়েজ অব বিডি হিন্দুজ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কার্ডটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “মুহাম্মদ ইউনূস দেশটিকে দেউলিয়া করে দিচ্ছেন, দেশ ছাড়ার আগে সবকিছু লুটে নিচ্ছেন।” ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকেও (১, ২) কার্ডটি শেয়ার করেছে পোস্ট করেছেন একাধিক ব্যবহারকারী।
ফেসবুকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করে একজন লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ করে গত ১৬ বছরে দেশকে দিয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, অসংখ্য ফ্লাইওভার, নতুন বিমানবন্দর, ৫৬০টি মডেল মসজিদ, ১৫ লক্ষ গৃহহীন মানুষের আশ্রয়ণ প্রকল্প,১৩টি যাত্রীবাহী বিমান, সড়ক-মহাসড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টসহ অগণিত উন্নয়নমূলক অবকাঠামো..। এর সঙ্গে প্রায় একশ’ ধরনের ভাতা ও নাগরিক সুবিধা। অথচ মাদারবোর্ডগুলি ক্ষমতায় এসে মাত্র ১৮ মাসে দেশের ঋণ বাড়িয়ে দিলেন ২১ লক্ষ কোটি টাকা..!”
কিওয়ার্ড সার্চে মূল ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। নিউজ টোয়েন্টিফোর তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার ১৩ মিনিটের লাইভ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া মাইটিভিও একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছে, “পূর্বে দেনা ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা, এ বছর উপনীত হয়েছে তেইশ লক্ষ কোটি টাকার উপরে।”
ভিডিওতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে বলতে শোনা যায়, “২০০৮ সালে যখন শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায়িত হন তখন আন্তর্জাতিক দেনা ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। সেটা এ বছর এসে উপনীত হয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই যে সামগ্রিক দায়, এর জন্য আমাদের টাকার যে মূল্যমান কমেছে, সেটা ৪৬ ভাগ।”
একাধিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি (রোববার) সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের বাজার ও আসন্ন রমজান নিয়ে টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবের সময় সরকারি ঋণ প্রসঙ্গে এ কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাকের কোনো প্রতিবেদনে বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্য হিসেবে দাবি করা মন্তব্য খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব। এছাড়া একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৫.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ, বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্যকে বিকৃত করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।