
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি যমুনা টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে। দাবি করা হয়েছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। যমুনা টিভির আদলে বানানো ফটোকার্ডে একাধিক দেশীয় অস্ত্রের ছবি সংযুক্ত করা। কার্ডের ভেতরে লেখা, “কর্নেল অলির বাসায় তল্লাশি বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি উদ্ধার”। কার্ডে তারিখ হিসেবে “১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬” উল্লেখ করা আছে। কার্ডের নিচে যমুনা টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে।

পোস্টদাতা ক্যাপশনের একটি অংশে লিখেছেন, “লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বাসায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।” এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ২৩০-এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে যমুনা টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ১০ ফেব্রুয়ারির ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সেদিন এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ছড়ানো কার্ডের লেখার ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টেরও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ডিসমিসল্যাব। যমুনা টিভির নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড তারা প্রকাশ করেননি।
ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের কোনো খবর নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির উৎস যাচাইয়ে কার্ডে থাকা ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক গণমাধ্যমে ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪, ৫) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট (বুধবার) দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রায় প্রতিটি কক্ষ থেকে বাঁশের লাঠি, লোহার পাইপ, রামদা, পেট্রলবোমা, হকিস্টিক, চাকু, তরবারির মতো দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে খালি মদের বোতল, গাঁজা, ফেনসিডিলের মতো মাদক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেদিন এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অর্থাৎ, কর্নেল অলির বাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ড উভয়ই ভুয়া।