
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলাকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।

ফেসবুকে “প্রজাপতি টিভি” নামের একটি পেজ (আর্কাইভ লিংক) থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবিযুক্ত ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সেনাবাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার।’’ নিচে তারিখ হিসেবে, “৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫” উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনেও ফটোকার্ডের ভেতরের কথাটি আছে। এছাড়া ক্যাপশনে, ড. ইউনূস, বাংলাদেশ ইলেকশন, বাংলাদেশ পলিটিক্স, বিডিনিউজ ২৪, বাংলাদেশ নিউজ এসব হ্যাশট্যাগ ব্যবহৃত হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ সময় পর্যন্ত ফটোকার্ডটিতে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং পোস্টটি ৯৪০ বারের অধিক শেয়ার করা হয়েছে। কার্ডে দুই শর বেশি মন্তব্য করা হয়েছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সঠিক সিদ্বান্ত।’’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “যদি সত্যি হয় এইটা সহমত পোষণ করি।’’
ফেসবুক একাধিক পেজ (১, ২) এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
ফটোকার্ডটির উৎস যাচাইয়ে কার্ডের ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে দেখা যায়, যমুনা টিভির আদলে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন পেজ ‘জানিনা টিভি’ থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একই ফটোকার্ডটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। কার্ডে জানিনা টিভির ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের নাম উল্লেখ করা আছে। মজার ছলে বানানো সেই ফটোকার্ডে এই পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে অধিকতর যাচাইয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে, সেখানে এমন কোনো উক্তির সম্বলিত পোস্টের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভেরিফায়েড পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে নির্বাচন সম্পর্কিত দুইটি (১, ২) লিখিত পোস্ট করা হয়েছে।

উভয় পোস্টে সরকার দেশের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে জনগণের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করলে সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর কোনো বার্তা প্রধান উপদেষ্টা প্রকাশ্যে দেননি। নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও এ ধরণের কোনো নির্দেশনার ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

এছাড়া, প্রচারিত ফটোকার্ডে তারিখ হিসেবে “৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫’’ উল্লেখ আছে যা আরও এক বছর আগের বার্তা দেয়। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ড.মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যযুক্ত একটি ফটোকার্ড যমুনা টিভি প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল, “চলতি বছরের শেষে হতে পারে নির্বাচন জাপানি গণমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা’’।
অর্থাৎ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সেনাবাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়।