তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফিলিস্তিনের ‘কেফিয়া’ পরা শিক্ষার্থী ক্রিস্টোফার নোলানের মেয়ে নন
This article is more than 1 month old

ফিলিস্তিনের ‘কেফিয়া’ পরা শিক্ষার্থী ক্রিস্টোফার নোলানের মেয়ে নন

তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

হলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ছবিটি ছড়াতে দেখা গেছে। ছবিতে ফিলিস্তিনের ‘কেফিয়া’ পরা একজন তরুণীর সঙ্গে দেখা যায় নোলানকে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এই তরুণী নোলানের মেয়ে; তার স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা, তখনই ছবিটি তোলা। যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবির এই তরুণী নোলানের মেয়ে নন। অনেকেই ভুল বোঝায় তরুণী নিজে টুইট করে জানিয়েছেন তিনি নোলানের মেয়ে নন, তবে তারা এক সঙ্গে স্কুলে যেতেন।

রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি অনলাইন পোর্টালেও এই ছবিসহ সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয় নিউইয়র্কে মেয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা; যেখানে তার মেয়েকে ‘কেফিয়া’ পরে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যায়। 

অনেকের কাছেই কেফিয়া ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে গণ্য। গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই কালো-সাদা কেফিয়া। 

একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ইংরেজিআরবি ক্যাপশনে তরুণীটিকে নোলানের মেয়ে হিসেবে দাবি করা হয়। পোস্টের নিচে অনেক মন্তব্যে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল প্রসঙ্গটি দেখা যায়। আরবি ক্যাপশনে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটিতে পঞ্চাশ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন প্রায় সাড়ে চারশ ব্যবহারকারী। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি শেয়ার হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি।

ইংরেজি ক্যাপশনে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটিতে ১০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্তব্য আছে এক হাজারের উপর। মন্তব্যে কেউ কেউ বলছেনও যে সঙ্গের তরুণীটি নোলানের মেয়ে নন। এছাড়া পেজ থেকে করা এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন প্রায় ৯০০ ব্যবহারকারী। ফেসবুকের এক গ্রুপ থেকেও ছবিটি শেয়ার করে একই ক্যাপশনে প্রচার করা হচ্ছে। 

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড একাউন্টসহ একাধিক প্রোফাইল (, , ) থেকেও একই দাবিতে ছবিটি শেয়ার করা হয়েছে। 

ছবি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবির সত্যতা যাচাইয়ে অনলাইনে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। সার্চে একটি এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ওই একাউন্টের শিক্ষার্থী নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এবারের সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন। নোলানের মেয়ে বলে তার যে ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ওই একাউন্টে পোস্ট করা হয় গত ১৮ মে। পোস্টটির ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা- ‘নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে আজ স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য ক্রিস্টোফার নোলানের মেয়ে ও আমাকে অভিনন্দন।’  

পরে যখন তিনি জানতে পারেন ছবিটির কারণে অনলাইনে অনেকে তাকে ভুলভাবে নোলানের মেয়ে বলে প্রচার করছে, তখন তিনি আরেকটি টুইট করেন। টুইটে তিনি লিখেন, ‘সবাইকে বলছি আমি তার (ক্রিস্টোফার নোলান) মেয়ে নই, আমি আর ফ্লোরা শুধু একসঙ্গে স্কুলে যেতাম এবং তার বয়ফ্রেন্ড ও আমি একই বর্ষের শিক্ষার্থী।’ একাউন্টের হ্যান্ডেল ‘ড্যানি’। এই তরুণীর নাম ড্যানি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, ক্রিস্টোফার নোলান-ইমা থমাস দম্পত্তির চার সন্তান। নোলানের স্ত্রী চলচ্চিত্র প্রযোজক ইমা থমাস একবার ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের চার সন্তান থাকার তথ্য তুলে ধরে জানান কীভাবে তিনি পরিবার ও পেশাগত জীবন সমন্বয় করে থাকেন।

এছাড়া অনলাইনে এক সংবাদ প্রতিবেদনে তাদের পরিবারের ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে তোলা সেই ছবিতে নোলানের সঙ্গে তার একমাত্র মেয়ে ফ্লোরা নোলানকে দেখতে পাওয়া যায়। ছবির সেই ফ্লোরার সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া তরুণীর চেহারার কোনো মিল চোখে পড়েনি।

আরো কিছু লেখা