আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
জামাল ভূঁইয়ার বকেয়া বেতন দিচ্ছেন মেসি- গণমাধ্যমের নামে ছড়ানো তথ্যটি ভিত্তিহীন

জামাল ভূঁইয়ার বকেয়া বেতন দিচ্ছেন মেসি- গণমাধ্যমের নামে ছড়ানো তথ্যটি ভিত্তিহীন

আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় লিওনেল মেসি- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা এ তথ্যটি সঠিক নয়। যাচাইয়ে দেখা যায় আর্জেন্টাইন লিজেন্ডস নামের একটি ফেসবুক পেজের ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্যি ধরে নিয়ে তা ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ডিবিসির নামে ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়ানো হয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, এমন কোন সংবাদ ডিবিসি প্রকাশ করেনি বা ফেসবুকে পোষ্ট করেনি; অন্য কোন গণমাধ্যমেও এমন তথ্য প্রচার হতে দেখা যায়নি।

ডিবিসির নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয় যে জামাল ভূঁইয়ার বকেয়া বেতন পরিশোধ করবেন লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টেও (, , ) সম্প্রতি এ ভুল তথ্যটি শেয়ার হতে দেখা যায়। 

সম্প্রতি ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন- ফিফার আদালত আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল দে মায়োকে জামাল ভূঁইয়ার বকেয়া বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেয়। তবে এই ক্লাবের সঙ্গে মেসির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের আগস্টে ক্লাব সোল দে মায়োতে যোগ দেন বাংলাদেশি খেলোয়াড় জামাল ভূঁইয়া। ক্লাবটিতে মাসিক ১২ হাজার ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তি ছিল। কিন্তু সাত মাস বেতন না পাওয়ায় সে ক্লাব ছেড়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন, যোগ দেন ঢাকা আবাহনী ক্লাবে। পাশাপাশি তিনি সোল দে মায়ো ক্লাবের বিরুদ্ধে ফিফা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানান। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের বিচারক জামালের পক্ষে রায় দেয়। আদালত সোল দে মায়ো ক্লাবকে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ ডলার জামালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ফেসবুকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, “জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশের প্লেয়ার সে কথা জানতে পারার পর জামালের সব বকেয়া বেতন কিং মেসি পরিশোধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” একই দাবি করা হয়েছে ডিবিসি নিউজের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডে। যাচাইয়ে ডিবিসি নিউজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে কোন সংবাদ পায়নি ডিসমিসল্যাব। তবে ডিবিসি নিউজের লোগো ব্যবহার করে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সঙ্গে তাদের পেজ থেকে ১৬ জানুয়ারি তারিখে পোস্ট হওয়া একটি ফটোকার্ডের মিল পাওয়া যায়।

ফেসবুক পোস্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি পাওয়া যায় আর্জেন্টাইন লিজেন্ডস নামের একটি পেজে। গত ১১ মে পেজটি পোস্ট করে যে জামাল ভূঁইয়ার প্রাপ্য বেতন শোধ করে দেবেন মেসি। দুদিন পর ১৩ মে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ভক্ত পরিচয় দেয়া এই চ্যানেলটি থেকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে বলা হয় “এবার জামাল ভূঁইয়াকে তার প্রাপ্য বেতনের চেয়ে বেশি টাকা দান করলেন কিং মেসি। বেতনের সাথে বোনাস পেয়ে খুশিতে আত্মহারা জামাল ভূঁইয়া।” পেজের দুটো পোস্টই ছিল ফটোকার্ড আকারে। 

আর্জেন্টাইন লিজেন্ডস নামের পেজটি বাংলাদেশ থেকেই চালানো হতে দেখা যায়। পেজটি নিজেদের আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ফ্যান পেজ হিসেবে দাবি করলেও তাদের নানা বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট দিতে দেখা যায়। গত ৮ মেতে তারা বিশ্ব গাধা দিবসের একটি ফটোকার্ড বিকৃত করে পোস্ট দেয় এই ক্যাপশনে: “সবাই আমাদের শুভেচ্ছা জানান 🇦🇷❤️।” পেজটির বিষয়ে ক্রীড়া সাংবাদিক ও আজকের পত্রিকার সহ-সম্পাদক উপল বড়ুয়ার মতামত জানতে চাইলে তিনি এটিকে ‘স্যাটায়ার পেজ’ হিসেবেই চিহ্নিত করেন। কিন্তু এই পোস্টের তথ্যকে সত্য তথ্য ধরে নিয়ে অনেকেই পোস্ট করেছেন ফেসবুকে (, , )।

ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য মনে করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি ডিসমিসল্যাব “ঠাট্টার ছলে ভুয়া খবর: ছদ্মবেশী প্যারোডি অ্যাকাউন্টের ফাঁদ” শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে কীভাবে সামাজিক মাধ্যমের প্যারোডি পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট মাঝেমধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারী এমনকি গণমাধ্যমকেও বোকা বানায়। ২০২৩ সালে ডিসমিসল্যাবের আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিমো যাদব নামের একটি টুইটার হ্যান্ডেল থেকে পাকিস্তানি খেলোয়াড় বাবর আজমের একটি ভুয়া সংলাপ পোস্ট করা হয়, যাকে সত্য ধরে নিয়ে ফাঁদে পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম। নিমো যাদব টুইটটি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে করলেও অনেকেই এটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নেয়।

আরো কিছু লেখা