
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে সম্প্রতি দাবি করা হচ্ছে, প্রবাসীদের মোট ভোট এসেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার। যার মধ্যে বিএনপি ৩ লাখ ৯৭ হাজার ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে চার লাখ এক হাজার ৪৬০টি পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। তাছাড়া, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হবে।

ফেসবুকে একটি পেজ(আর্কাইভ লিংক) থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টের ভেতরে লেখা, “প্রবাসীদের মোট ভোট আসছে ৪,৫১০০০/ বিএনপি পেয়েছে ৩,৯৭০০০/জামায়াত পেয়েছে ৪৯০০০ জাতীয়পাটি ৫০০০/আলহামদুলিল্লাহ।।।🌾🌾”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি প্রায় দুই হাজারবার শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে সাড়ে ৭ হাজারের বেশিবার। এই পোস্টে ৯০০ এর অধিক মন্তব্য করা হয়েছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ধানের শীষ জিন্দাবাদ আলহামদুলিল্লাহ।” ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭), পেজ এবং গ্রুপ থেকে একই দাবিতে পোস্টটি করা হয়।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকা পোস্টাল ভোট বিধি বিশ্লেষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। বিধিমালার ১৪ ধারার খ(৩) উপধারায় লেখা রয়েছে, “ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রিজাইডিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট পেপারের খাম (ফরম-১০ বা ফরম-১০খ) (যাহাতে রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত রয়েছে) খুলিয়া আলাদা করিবেন এবং ঘোষণাপত্রটিতে যথাযথভাবে স্বাক্ষর করা রহিয়াছে কিনা তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন।”

অর্থাৎ, ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনার জন্য পোস্টাল ভোটের খাম খোলা হবে। এর আগে পোস্টাল ভোটে কোন রাজনৈতিক দল এগিয়ে আছে বা কোন দল কত ভোট পেয়েছে তা জানার সুযোগ নেই।
ডিসমিসল্যাব এর আগে প্রবাসীদের ভোটে জামায়াতে ইসলামীর এগিয়ে থাকার দাবি সম্বলিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তখন প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি ডিসমিসল্যাবকে এ বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিতে বলা হয়, “বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টাল ভোটের ফলাফল সংক্রান্ত নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের প্রসঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, পোস্টাল ব্যালট পেপার নির্বাচনের দিন বিকাল ৪:৩০ ঘটিকার পরে নিয়মিত ভোট গণনার সময় একই সাথে গণনা করা হবে। উল্লেখিত সময়সীমার পূর্বে ভোটের ফলাফল জানার কোন সুযোগ নেই। অতএব, এতদসংক্রান্ত যেকোন ধরনের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।”
অতএব, প্রবাসীদের ভোটে তথা পোস্টাল ব্যালটে বিএনপি এগিয়ে থাকার দাবিতে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে ভোট গণনার আগেই। প্রবাসীদের তরফ থেকে কত ভোট এসেছে কিংবা কোন রাজনৈতিক দল কত ভোট পেয়েছে তা নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গণনার আগে কোনোভাবে জানা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে শুধু প্রবাসী নন, দেশ থেকেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে চার লাখ এক হাজার ৪৬০টি পোস্টাল ব্যালট এরইমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। দেশের অভ্যন্তরে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৪ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। আর দুই লাখ ১৩ হাজার ৬৯৭ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।\