
কুমিল্লায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রভাবশালী নেতার ছেলে স্কুল শিক্ষককে মেরেছে- এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের। একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় স্কুলের এক ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টকে তার ছাত্রের ঘুসি মারার দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৯ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে স্কুলড্রেস পরা এক ছাত্র এক ব্যক্তিকে ঘুসি মারছে। পরে ওই ব্যক্তির দিকে আবারও তেড়ে গেলে উপস্থিত অন্য ছাত্ররা এবং একজন নারী তাকে থামায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি বাংলা সিনেমার গান শোনা যাচ্ছে।

ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “কুমিল্লায় স্কুল শিক্ষককে মারলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছেলে মানজা মানিক।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার বার এবং শেয়ার হয়েছে ২০০ বারের বেশি। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ও পেজ (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ফেসবুকের অন্য একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “কুমিল্লায় হিন্দু স্কুল শিক্ষককে কিল ঘুসি মারলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছেলে মানজা মানিক।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে চলতি বছরের ৭ মার্চ ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাওয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনের একটি অংশে লেখা, “অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় একটি সরকারি উচ্চ স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে তর্ক চলাকালীন এক শিক্ষককে দশম শ্রেণির এক ছাত্র আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাপলাপাড়ু মন্ডলের বীরাবল্লি জেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটে এবং পুরো বিষয়টি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।” ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ১৩ সেকেন্ড অংশের সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু মিল দেখা যায়।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দেখা যায়, একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) এ ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে লাঞ্ছিত ব্যক্তির নাম রবীন্দ্র রাও। তিনি বিদ্যালয়টির একজন প্রবীণ ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। ধূমপান করতে দেখে তিনি পুনীত কুমার নামের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রকে বকাবকি করেন। তিরস্কারের জেরে রবীন্দ্র রাওয়ের বুকে ঘুসি মেরেছিল ওই ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি। কিছু ছাত্র তাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্কুলের গ্রন্থাগারিক পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন, তবে কয়েকদিন পর তিনি ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হয়।

অর্থাৎ, কুমিল্লায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছেলে স্কুল শিক্ষককে মারধর করছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সত্য নয়। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এক স্কুলের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টকে ছাত্রের ঘুসি মারার দৃশ্য এটি।