
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নারীর উপর বিএনপির নির্যাতনের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভিন্ন এক ঘটনার দৃশ্য, বাংলাদেশের নয়।
“সত্যের আলো” নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ২৮ জানুয়ারি ৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বিএনপি নেতার ছেলের বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নারীর উপর বিএনপির সন্রাসীদের অমানবিক নির্যাতন।” (বানান অপরিবর্তিত)।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১০ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। শেয়ার হয়েছে চার শর অধিক বার। একজন মন্তব্য করেছেন, “মদীনার ইসলাম কায়েম করতেছে।” আরেকজন লিখেছেন, “হায়রে বিএনপি। অবশ্যই বিচার হবে।” “পতনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি” লিখেও মন্তব্য করেছেন একজন।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম সার্চ করলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হুবহু একই ভিডিও সামনে আসে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও- এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হুবহু একই দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে এক দম্পতির ওপর নির্যাতন চালাতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে।
বিএনপির নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ৭ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড অংশের পুরোপুরি মিল দেখা যায়। অধিকতর যাচাইয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার- এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দৃশ্যটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি ঘটনার।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ২০২৪ সালের ২৮ জুন এক সালিশি সভায় দম্পতিকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। যার ভিডিও পরবর্তীকালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তাজিমুল ইসলাম ওরফে ‘জেসিবি’ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দ্বিতীয়বার বিয়ের অভিযোগে সালিশি সভায় ওই নারীর কাছে জরিমানা হিসেবে মোট ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। জরিমানা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে তাজিমুল জনসমক্ষে ওই দম্পতিকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রহার করে।
ভিডিওটি পরে প্রকাশ্যে এলে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে মূল অভিযুক্ত তাজিমুলকে গ্রেফতার করে এবং আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ‘দ্য ওয়্যার’-এর অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ওই এলাকায় তাজিমুলের নেতৃত্বে এমন সালিশি সভা ও অর্থ আদায়ের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এমনকি ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকেও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
অর্থাৎ, ভিডিওটির সঙ্গে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নারীর উপর বিএনপির অমানবিক নির্যাতনের দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। মূল ঘটনাটি বাংলাদেশেরই নয়, বরং এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি ঘটনার ভিডিও।