
ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি বনাম জামায়াতের নির্বাচন উপলক্ষ্যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরু হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৪ সালে কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের একটি পুরোনো ঘটনার দৃশ্য।
নিজাম উদ্দীন হাজারী নামের একটি প্রোফাইল থেকে ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ব্রেকিং নিউজ__এইমাত্র চট্রগ্রামের রাউজানে বিএনপি বনাম জামায়াতের নির্বাচন উপলক্ষে টি টোয়েন্টি ম্যাচ শুরু হয়েছে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২০ হাজারের বেশি ভিউ ও আড়াইশর বেশি শেয়ার হয়েছে।

একই পোস্ট ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নামের একটি প্রোফাইল থেকে শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “জামায়াত vs বিএনপি ভয়াবহ উত্তাল চট্টগ্রাম।”
এ ধরনের দাবিতে আরও একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এছাড়া ইউটিউবেও একই দাবিতে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম সার্চ দিয়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সংবাদমাধ্যম ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি কিফ্রেমের আংশিক মিল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিল। প্রতিবেদনে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিএনপির দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছিল।

পরবর্তী যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে এসটিভি নিউজ ফোরটিন নামের ইউটিউব চ্যানেলে একই দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “মেঘনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সং*ঘর্ষ।” ভিডিওর বর্ণনায় ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়, যার সঙ্গে ভোরের কাগজের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওটির প্রথম ১৪ সেকেন্ডের সঙ্গে সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর একাধিক দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য চট্টগ্রামের রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি ডিসমিসল্যাবকে জানান, “এমন কোনো ঘটনাই ঘটে নাই। এগুলো ভুয়া। আমার সঙ্গে সব দলের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ আছে। তারা বের হলে, আমাকে জানাবে আগে।”
অর্থাৎ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি-জামায়াত ‘টি টোয়েন্টি ম্যাচ’ বা সংঘর্ষের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি কুমিল্লার পুরোনো ঘটনার।