
শিবিরের নেতার বাবার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই দাবিতে বার্তা বাজারের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড বার্তা বাজার প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকে “দশেরলাঠি” নামের একটি পেজ থেকে গত ১০ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। বার্তা বাজারের অনুকরণে সৃষ্ট সেই ফটোকার্ডের ভেতরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অস্ত্র উদ্ধারের ছবি সংযুক্ত করে লেখা “শিবিরের নেতার বাবার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৫।”

কার্ডের উপরে বামে বার্তা বাজারের লোগো, এবং ডানে তারিখ হিসেবে “১০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং” দেওয়া আছে। কার্ডের নিচে “বিস্তারিত কমেন্টে” এবং সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম, এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি সাড়ে ৪ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে।
পোস্টটির কমেন্টে দেখা যায় অনেকেই পোস্টটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “জুলাই আন্দোলন এর সময় থানা লুটপাট করেছে জামাত শিবির, এদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র থাকতে পারে।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “জামায়াত শিবিরের সব নেতাদের বাড়িতে অভিজান চালাইলে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের বিবরণে পোস্টদাতা লিখেছেন, “শিবির নেতার বাবার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অ স্ত্র উদ্ধার,,,,।”
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে বার্তা বাজারের ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটি ১০ তারিখে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেছে দেখা যায়। এই ফটোকার্ডটির সাথে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটির হুবহু মিল রয়েছে। তবে বার্তা বাজারের প্রকাশিত ফটোকার্ডটির শিরোনাম হলো, “ছাত্রদল নেতার বাবার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৫।”

এছাড়া পোস্টটির কমেন্টে একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে লেখা, “নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতার বাবার পরিত্যক্ত বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কদমীরচর এলাকার কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। কাশেম আলীর ছেলে মোবারক হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব।”

অধিকতর যাচাইয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে একাধিক (১, ২, ৩, ৪) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৯ জানুয়ারি প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “আড়াইহাজারে ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বার্তা বাজারের সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদক ও প্রকাশক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছড়িয়ে পড়া কার্ডটি ভুয়া।
অর্থাৎ, বার্তা বাজারের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া। ১০ তারিখে প্রকাশিত তাদের একটি ফটোকার্ডকে সম্পাদিত করে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও ভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মীদের নামে ছড়ানো একাধিক অপতথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।