নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Screenshot of a Facebook post claiming BASD–Democratic United Front candidate Dr Manisha Chakraborty won Barishal-5; Dismislab fact-check finds she did not win.

বরিশাল-৫ আসনে জয়ী হননি ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, বরিশাল- ৫ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, বরিশাল-৫ (মহানগরী ও সদর) আসনে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তীর ছবি সংযুক্ত করে একটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “অভিনন্দন ডাঃ মনিষা চক্রবর্ত্তী বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দিদি জন্য সবাই আর্শীবাদ করবেন। (হরে কৃষ্ণ)।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৭৪২ বার শেয়ার করা হয়েছে। ৫১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল এই পোস্টে। ফেসবুকের একাধিক (, , , , , ) প্রোফাইল, পেজ, গ্রুপ থেকে ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী জয়ী হওয়ার দাবিতে পোস্ট করা হয় সেদিন। 

Screenshot of a Facebook post claiming BASD–Democratic United Front candidate Dr Manisha Chakraborty won Barishal-5; Dismislab fact-check finds she did not win.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী নিজের পেজ থেকেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি জানান এ আসনে তিনি জয়ী হননি। পোস্টে লিখেন, “একটি অনলাইন গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে জানাচ্ছি যে বরিশাল-৫ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে আমি বিজয়ী হইনি। তবে বিজয়ী না হলেও যে জনগনের আকুন্ঠ সমর্থনে আমাদের ভোট ব্যাপকভাবে বেড়েছে, তাদেরকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এজেন্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৯০ কেন্দ্রে আমাদের প্রাপ্ত ভোট ১৪ হাজার। বরিশাল-৫ আসনে মোট কেন্দ্রসংখ্যা ১৭৬। সবার এই আন্তরিক সমর্থন ও ভালবাসা আমাদের শক্তি যোগাতে থাকুক। জনগণের ক্ষমতায়নের লড়াই চলবে!।” 

Screenshot of a Facebook post claiming BASD–Democratic United Front candidate Dr Manisha Chakraborty won Barishal-5; Dismislab fact-check finds she did not win.
ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তীর নিজের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দেওয়া পোস্টের স্ক্রিনশট (বামে) এবং বরিশাল-৫ আসনের ফলাফল সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট (ডানে)।

এছাড়া একাধিক (, , , ) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার জয়ী হয়েছেন। প্রথম আলোর ১৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “ফয়জুল করীম ও মনীষার হার, ছয় আসনেই বিএনপির জয়।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “বরিশাল-৫ (মহানগরী ও সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন। আর বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন।” 

অর্থাৎ, বরিশাল-৫ আসনে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর জয়ী হওয়ার দাবিটি ভুল ছিল। 

আরো কিছু লেখা