নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check image showing a viral Facebook post falsely claiming that a Jamaat leader was arrested in Banshkhali with 5,000 yaba pills, using an old drug seizure photo from Chattogram.

একাধিক তথ্য বদলে পুরোনো ছবি ছড়ানো হচ্ছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে

নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

বাঁশখালীতে ৫০০০ পিস ইয়াবা পাচারের সময় জামায়াত নেতাসহ দুইজন আটক হয়েছে এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছড়ালেও ডিসমিসল্যাব ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ৮ মাস আগের ঘটনার একাধিক তথ্য বদলে ভুয়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে এই পোস্টের মাধ্যমে। 

ফেসবুকে “ফিরে এসো দিনের পথে” নামের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২৬ জানুয়ারি একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবির ভেতরে লেখা হয়, “বাঁশখালীতে ইয়াবা পাচারের সময় জামায়াত নেতাসহ আটক ২।” এর নিচে লেখা, “৫০০০ পিচ ইয়াবা সহ জান্নাতি দলের নেতা কট,।” পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “যান্নাতি দলের নেতা ইয়াবা সহ কট,,।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৪ হাজার ১০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৮ হাজার ৮০০ এর বেশি। 

সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে সার্চ করলে, একাধিক (, , , , ) সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১১ মে প্রকাশিত কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “চট্টগ্রামে ৩৯০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে তিন হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সালাম মোল্লা (৫৪) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রবিবার (১১ মে) কোতোয়ালি থানাধীন রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম মোল্লা নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার বিশনন্দী ইউনিয়নের দায়কান্দা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ন্যাশনাল মানবাধিকার অপরাধ দমন সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা জেলার জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।” 

দৈনিক আজাদীর ১১ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিবার (১১ মে) ৩ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ধরা পড়েছেন আব্দুস সালাম মোল্লা (৫৪)। যিনি নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দিয়ে বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, সালাম মোল্লা নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী বলে পরিচয় দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।” 

উল্লেখ্য, কোনো প্রতিবেদনেই অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মোল্লার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। 

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া পোস্টের দাবিটি ভুল। বাঁশখালীতে ৫০০০ পিস ইয়াবাসহ নয় বরং চট্টগ্রামের কোতোয়ালীতে ৩ হাজার ৯০০ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছিল ২০২৫ এর মে মাসে। 

আরো কিছু লেখা