
বাংলাদেশের একজন ইসলামি বক্তা পশ্চিমা বিশ্বের খ্রিস্টানদের ওপর হামলার আহ্বান জানানোর পরপরই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন— এই দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার)। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মাওলানা ফরিদুল ইসলামের মূল বক্তব্যে খ্রিস্টানদের ওপর হামলার কোনো প্রসঙ্গ উঠে আসেনি।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের একজন ইসলামি বক্তা এক ওয়াজ মাহফিলে পশ্চিমা বিশ্বের খ্রিস্টানদের ওপর হামলা করার জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান। এর পরপরই হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।” ৫৪ সেকেন্ডের এই ভিডিওর শুরুতে একজন ইসলামি বক্তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা মুসলমান দাবি করি অথচ…।” এ পর্যন্ত বলার পরই এই বক্তাকে বক্তব্যের মাঝেই মঞ্চে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। পোস্টটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে ৪ হাজার বারের বেশি।
কিফ্রেম সার্চ করলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্টার নিউজের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রায় ৩ মিনিটের এই ভিডিওতে বক্তার সম্পূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায়। ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঐ সময় সূরা আলে ইমরান-এর ১০২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করছিলেন মাওলানা ফরিদুল ইসলাম। আয়াতটি তিলাওয়াত করে তিনি বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের মেহেরবানিতে আজকে অল্প সময়ের জন্য যে সময়টুকু দিয়েছেন এর আলোকেই কথা বলে শেষ করব ইনশাল্লাহ। আমি যে আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি সূরা আলে ইমরান-এর ১০২ নম্বর আয়াত। এর আলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে কথা বলে শেষ করে দেব। আল্লাহ রাব্বুল বলেছেন, ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা । হে ঈমানদারগণ! তোমরা ভয় কর সেই মহান রবকে। কাকে ভয় করতে বলেছেন? সেই রবকে ভয় করতে বলেছেন। কেমনে ভয় করতে হবে? যে রাব্বুল আলামিন এই পৃথিবীর জমিনে আপনাকে আমাকে সৃষ্টি করেছেন আপনার ওপর ঈমান এনেছি। কথা বলেন ঠিক কিনা? ঈমান এনেছি অথচ মুসলমান হওয়ার পরেও মুসলমান দাবি করি অথচ আমরা কি মুসলমান নাকি? আমরা কি মুসলমান? আমরা মুসলমান দাবি করি অথচ…” এরপরই তাকে বক্তব্য থামাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ অস্বস্তি বোধ করার পর তিনি মঞ্চে পড়ে যান।

কিওয়ার্ড সার্চে এ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, গত বছরের ৬ই ডিসেম্বর রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চরবালুয়া গ্রামের একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাওলানা ফরিদুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাহফিলের তৃতীয় বক্তা হিসেবে বয়ান শুরুর কিছুক্ষণ পরই ব্রেন স্ট্রোক হয় তার। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের ইসলামি বক্তার পশ্চিমা বিশ্বের খ্রিস্টানদের ওপর হামলার আহ্বান জানানোর পরপরই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করার দাবিটি সঠিক নয়। তিনি সূরা আলে ইমরান-এর ১০২ নম্বর আয়াতের ভিত্তিতে আল্লাহকে ভয়ের প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলেন, কোনো হামলার আহ্বান জানাননি। এবং হার্ট অ্যাটাকে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাননি মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, মঞ্চে স্ট্রোক করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি।