
বাংলাদেশে ৬২ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২১ বছর বয়সী তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের একাধিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার বলে প্রচার করা হয়। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি একটি সাজানো অভিনয়ের দৃশ্য, বাস্তব ঘটনার নয়।
গত ৮ জানুয়ারি ভারত থেকে পরিচালিত “বাবা বানারাস” নামের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ইংরেজিতে লেখা ক্যাপশনের বাংলা অর্থ দাড়ায়— “বাংলাদেশে ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রথার অবশ্যই নিন্দা করা উচিত। ভোটব্যাংক রাজনীতির স্বার্থে এসব বাস্তবতা উপেক্ষা করলে নির্যাতনকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং জনসংখ্যার দ্রুত পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে কথা বলুন। তারা আপনার একেবারে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখেছেন প্রায় আড়াই লাখ ব্যবহারকারী। রিপোস্ট বা শেয়ার হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি।
অন্যদিকে, জাপান থেকে পরিচালিত একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি রিপোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “এটা কি সত্যি যে তারা এই দেশ থেকে এক লাখ মানুষ আনবে? বাংলাদেশে ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। নীরবতা নির্যাতনকে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে কথা বলুন। তারা আপনার একেবারে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।” প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে টোকিওতে আয়োজিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ শ্রমিক নেওয়ার কথা জানায় জাপানী কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।
ছড়িয়ে পড়া দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর একাধিক কিফ্রেম সার্চ করে “এ এন মিডিয়া” (AN Media) নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট ও এ এন মিডিয়া ২৪ (AN Media 24) নামের একটি ফেসবুক পেজে হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। পরবর্তী যাচাইয়ে ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে ১৬ মিনিটের একটি ভিডিও পাওয়া যায় “এন কে মিডিয়া ওয়ান” (NK Media One) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে। এছাড়া, চ্যানেলটিতে আলোচিত ভিডিওর পুরুষ ও নারীর একটি বাসর ঘরের মিউজিক ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

পরবর্তী যাচাইয়ে, নিয়মিত একই ধরনের ভিডিও (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) আপলোড করা হয় এমন একাধিক সামাজিক মাধ্যম পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল (১, ২, ৩, ৪) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই ব্যক্তি বিভিন্ন কনটেন্টে আলাদা চরিত্রে অভিনয় করছেন। যেমন, ওয়েডিং স্টুডিও নামের ফেসবুক পেজে পাওয়া দুইটি ভিডিওর একটিতে আলোচিত ভিডিওর বয়স্ক পুরুষকে আলাদা এক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আবার অন্য একটি ভিডিওতে আলোচিত ভিডিওর পাত্রীর চরিত্রে থাকা তরুণীকে দেখা যায় ভিন্ন এক ব্যক্তির পাত্রীর চরিত্রে।

অর্থাৎ, ভারতের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়। সাজানো ভিডিও প্রচারিত হয়েছে বিনোদনের কনটেন্ট হিসেবে।
উল্লেখ্য, প্রায় একই ধরনের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ “হিল্লে বিয়ের” দাবিতে গত ২৯ নভেম্বর ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান “রিউমর স্ক্যানার” বিষয়টি মিথ্যা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।