
ভারতকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিষিদ্ধ করেছে দাবিতে সম্প্রতি একটি পোস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। বাংলাদেশ ভারতকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
আয়রনক্ল্যাড নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি চারটি দেশের পতাকা সম্বলিত একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “বাংলাদেশ তার নির্বাচনে ভারতকে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে, তবে পাকিস্তান এবং চীন অংশগ্রহণ করবে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি আড়াই শ বারের বেশি রিপোস্ট হয়েছে। দেখা হয়েছে ২৩ হাজারের বেশি বার।

একই পোস্ট আরও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে (১, ২, ৩, ৪, ৫)। অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর মধ্যে চারটি দক্ষিণ এশিয়া ও দুইটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সবগুলো অ্যাকাউন্টেই হুবহু একই ক্যাপশন ব্যবহার করে পোস্ট করা হয়েছে।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্ট পোস্টের প্রকাশিত গত ৪ ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়, “বাংলাদেশ ভারতকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, “যদিও নয়াদিল্লি এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে ৩৩০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক নিশ্চিত করেছেন যে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে যাবেন।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম “ইন্ডিয়া টুডে”- এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও ভারতকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশের আমন্ত্রণের বিষয়টি জানানো হয়।
এছাড়া, বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম “বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম”- এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আরেকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম “দেশ রূপান্তর” এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিরোনামে লেখা হয়েছে “সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না যে আটটি দেশ।”

প্রতিবেদনে লেখা আছে, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভারত, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ ৮টি দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, “ইসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ব্রাজিল, মিসর, কুয়েত, মরক্কো ও রোমানিয়াকে নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর জোট ফোরাম অব দ্য ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (এফইএমবিওএসএ)-কেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। তবে এসব দেশ ও সংস্থা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশ নির্বাচনে ভারতকে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিটি মিথ্যা।