
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে “কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মুসলিম মেয়েকে হত্যা করেছে হিন্দু যুবক” – এমন একটি দাবি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায় দাবিতে যার ছবি দেখানো হয়েছে, তাকে র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে “মোঃ মিলন মল্লিক” নামে অবিহিত করা হচ্ছে। এছাড়া একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে অভিযুক্তের নাম “মোঃ মিলন মল্লিক” বলা হয়েছে।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৬ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনের শুরুতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বনশ্রীতে হিন্দু ছেলে মিলন মল্লিকের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় মুসলিম কিশোরী লিলি আক্তার যে নৃশংস হ৩্যাকান্ডের স্বীকার হয়, সেখানে কি কেউ মুসলিম নি_র্যাতন খুঁজে পেয়েছেন?? কিন্তু যদি ঘটনায় মেয়েটি হিন্দু আর ছেলেটি মুসলিম হতো তাহলে কি প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতোনা??? (বানান অপরিবর্তিত)।” ফটোকার্ডের ভেতরে অভিযুক্ত যুবকের ছবির নিচে লেখা, “খুনি হিন্দু যুবক মিলন মল্লিক।” এবং নিহতের ছবির নিচে তার নামের আগে লেখা, “নিহত মুসলিম মেয়ে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৩ হাজার ৪০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে দেখা যায় ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ এবং পেজ (১, ২, ৩, ৪) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি ছড়িয়েছে। সব পোস্টেই অভিযুক্ত যুবককে হিন্দু হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
এই হত্যার বিষয়ে র্যাবের করা সংবাদ সম্মেলনটি যাচাই করলে দেখা যায়, র্যাব অভিযুক্ত যুবককে মোহাম্মদ মিলন মল্লিক হিসেবে অভিহিত করেছে। ভিডিওর ১৩ সেকেন্ডে র্যাবের কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “পলাতক আসামি মোহাম্মদ মিলন মল্লিককে বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন বড় সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব।” পরেও একাধিকবার অভিযুক্তকে মোহাম্মাদ মিলন মল্লিক হিসেবে অভিহিত করা হয়। ভিডিওর ২ মিনিট ১০ সেকেন্ডে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোহাম্মদ মিলন মল্লিক এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেন।” এছাড়া একাধিক (১, ২, ৩, ৪) গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ সম্মেলনটির ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে আটককৃত আসামির নাম ‘মোহাম্মদ মিলন মল্লিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক (১, ২, ৩, ৪) জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও আটককৃত আসামিকে মো. মিলন মল্লিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “প্রত্যাখ্যাত হয়ে বনশ্রীর কিশোরীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে মিলন: র্যাব।” প্রতিবেদনে বলা হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ঢাকার বনশ্রী এলাকায় স্কুলছাত্রী হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। স্কুলছাত্রীকে তার নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃত ২৮ বছর বয়সী মো. মিলন মল্লিক নিহতের বাবার মালিকানাধীন একটি হোটেলের কর্মচারী। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ডিসমিসল্যাব যোগাযোগ করে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করে বলেন, “হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মিলন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। আমাদের কাছে তার এনআইডি, ঠিকানা সব রয়েছে। সে মুসলিম।”
প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের একটি বাসা থেকে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় মিলন নামের একজন হোটেলকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
অর্থাৎ, বনশ্রীর ঘটনায় হিন্দু যুবক মুসলিম মেয়েকে হত্যা করার দাবিটি সত্য নয়।