
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ করায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই পুরোনো একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ছবি এটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে দায়ের করা একটি পুরোনো হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনি।
ফেসবুকে গত ২ ফেব্রুয়ারি “কালেকশন-টিম” নামের একটি পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “আওয়ামীলীগ করা এই চাচা গ্রেফতার করল পুলিশ।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ১ হাজার ৫০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৪ হাজার ৩০০টির বেশি।

পোস্টের মন্তব্য দেখলে বোঝা যায়, অনেকেই দাবিটিকে সত্য মনে করছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “এর নামই সংস্কার। সংস্কারের বন্যায় বেছে যাচ্ছে অন্যায়।” আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, “এ মানুষটাকে এখন গ্রেফতার করে আর কি হবে ওনার তো আর দুই দিন বাকি আছে মৃত্যুর এরপরেও নাকি কেন গ্রেফতার করতে হলো।”
ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।
ছবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “আসামি শতবর্ষী ইদ্রিস শেখের আদালতে হাজিরা ও প্রিজন ভ্যানে যাত্রা।” প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আসামি ইদ্রিস শেখ ২০০৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি।

২০১০ সালে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় পাঁচ বছর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি–তর্ক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন। রায়ে এ মামলায় ইদ্রিস শেখসহ নয়জনকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে কারাদণ্ড। ইদ্রিস শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “বিচারিক আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুর রশিদ মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইদ্রিস শেখের অনেক বয়স। তিনি তো বলেছেন তাঁর বয়স ১২০ বছর। ১২০ বছর বয়স না হলেও ইদ্রিস শেখের বয়স ১০০–এর কাছাকাছি হতে পারে।’”
একই দিনে প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনও পাওয়া যায় এ ঘটনা নিয়ে। এই ভিডিও প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “লাঠি হাতে আদালতে শতবর্ষী ইদ্রিস শেখ, প্রিজন ভ্যানে বাবাকে দেখেই কেঁদে ফেললেন ছেলে।”

একাধিক (১, ২) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ৩০ জুলাই সংবাদ প্রকাশের প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইদ্রিস শেখের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মক্কেল একজন অতিশয় বৃদ্ধ মানুষ। রাজৈর থানার এই খুনের মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগের রায় চ্যালেঞ্জ করতে চান ইদ্রিস শেখ। কিন্তু সে জন্য ইদ্রিস শেখসহ সাতজন আসামি আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। কারাগারে থেকেই জেল আপিল করবেন বৃদ্ধ ইদ্রিস শেখ।’”
পূর্বেও ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ভিন্ন দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে হলে তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার ওবুম বাংলাদেশ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।