
সৌদি আরবে পুরো শহর পানিতে ডুবে গেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি সৌদি আরবের নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ভিডিওটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের এবং প্রায় দুই বছর পুরোনো।
ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ২৯ মার্চ ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। দুরবিন নিউজ ডেইলি নামের পেজটি ফেসবুকে নিজেদের অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে দাবি করেছে। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু যানবাহন পানিতে ডুবে আছে এবং সম্পাদনা করে সেখানে লেখা, “সৌদি আরবের দেশে যেন গজব নেমে এলো।” ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “পানিতে ডূবে পুরো শহর যেন সাগর হয়ে গেসে।” (বানান অপরিবর্তিত)

ভিডিওটি এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যবহারকারী। এছাড়া শেয়ার করা হয়েছে প্রায় ৪০০ বার। মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশকিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটি সৌদি আরবের বলে ধরে নিয়েছেন। যেমন এক ব্যবহারকারী লেখেন, “ইহুদি দের অস্ত্র রাখা জন্য, এই অবস্থা,,।” আরেকজন লিখেছেন, “যদি এআই দিয়ে তৈরী না হয়, তবে আল্লাহর বিচার শুরু।এর জন্য সালমান দায়ী।”
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্ম পিংকভিল্লা ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একই দৃশ্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে। ৫৯ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটির ৪০ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়।

দুটি ভিডিওতেই দেখতে পাওয়া ডুবন্ত ট্যাক্সির নম্বর, পাশের বাসের নাম ও রঙেরও মিল পাওয়া যায়। এছাড়া, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত সে সময়ের একটি প্রতিবেদনে ব্যবহার করা ছবির সঙ্গেও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন শহরে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে রেকর্ড ২৫৪ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এতে প্রবল বর্ষণে দুবাইয়ের মহাসড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ, সৌদি আরবে পুরো শহর পানিতে ডুবে যাওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আসলে দুই বছরের পুরোনো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ঘটনা।