
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের “ত্রিমুখী” সংঘর্ষে উত্তাল রাজপথ- এমন দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি ২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষ্যে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের একটি দৃশ্য।
ফেসবুকে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলা কখন নামে একটি পেজ থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর শুরুতে দেখা যাচ্ছে গণেশ টেইলার্স ও প্রান্ত টেইলার্স নামের দুইটি দোকানের সামনে পুলিশের সঙ্গে অনেক মানুষের বাকবিতণ্ডা চলছে এবং অডিওতে জয় বাংলা স্লোগান শোনা যাচ্ছে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “ধানমন্ডিতে নি/র্বা/চন বাতিলের দাবিতে আ.লীগ ও পুলিশের ত্রি’মুখী সং/ঘ/র্ষে উত্তাল রাজপথ.!”

১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে বলতে শোনা যায়, “আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তাণ্ডবে উত্তাল রাজপথ। এবার অবৈধ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজপথ। প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগকে গুম, খুন ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। কারণ আওয়ামী লীগ হলো ফিনিক্স পাখির মতো। যতই আঘাত আসুক তারা উল্টো ঝড়ের গতিতে ফিরে আসবে। আওয়ামী লীগ এতো সহজে শেষ হয়ে যাওয়ার দল না। সঠিক সময়ে আসলে সেটির দাঁতভাঙা জবাব দ্বিগুণ হারে ফিরিয়ে দেয়। তাই এবার বিতর্কিত নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ধানমন্ডিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে এরপরে সেটি রূপ নেয় ত্রিমুখী সংঘর্ষে। বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এবং আওয়ামী ও ছাত্রলীগের ছোড়া ইটপাটকেলে আহত প্রায় ১৫ পুলিশ। এবার ধানমন্ডিতে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়ে দিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ।”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৫ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল আইয়ের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “কিশোরগঞ্জে বিএনপি’র পদযাত্রায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ।” ভিডিওর ৫১ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। বিশেষ করে গণেশ টেইলার্স এবং প্রান্ত টেইলার্স নামের দোকান দুটির নামের নিচের অংশ এবং দোকানের সামনে চলমান ধস্তাধস্তির দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে মিলে যায়।

এ ঘটনা নিয়ে অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোর বিভিন্ন অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পদযাত্রায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে শহরের রথখোলা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশও টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল।

অর্থাৎ, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর একাধিক অংশ প্রায় ৩ বছর পুরোনো এবং ভিন্ন স্থানের।