
ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত দুইজন প্রার্থীর এআই ভিডিও তৈরি করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দাবি ছড়ানো হয়েছে। এ দুইজন প্রার্থী হলেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এবং খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুয়িন জিহাদ নামের প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, “আতাউর রহমান খাঁন আঙ্গুর ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ভাইকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।” ভিডিওতে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা যায়।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গেলে আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায়। “আঙ্গুর ভাইয়ের জয়যাত্রা” নামের প্রোফাইল থেকে পোস্ট হওয়া ভিডিওতে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বলতে শোনা যায়, “প্রিয় আড়াইহাজার থানাবাসী! বিভিন্ন আইডি থেকে আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, আমি নাকি বসে গেছি। প্রশ্নই আসে না! আমি নির্বাচন থেকে সরে যাই নাই। আমি আগামীকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্যই অবশ্যই থাকব।”

প্রত্যাহারের দাবি তোলা ভিডিওটি যাচাই করতে গেলে আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের কণ্ঠের সঙ্গে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। ৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি এআই শনাক্তকরণ টুল ডিপফেক-ও-মিটারের মাধ্যমে যাচাই করলে দেখা যায় এটির এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দাবিটি ছড়ানো হয়।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারিতে জেন-জি ফাইটার নামের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “আজ সকালে বাবু সমীরণ দেওয়ান নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে ঘোড়া মার্কার প্রার্থী বাবু ধর্ম জ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দিয়েছেন। সবাইকে ঘোড়া মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।” ভিডিওতে সমীরণ দেওয়ান নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়ে ধর্মজ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে “সমীরণ দেওয়ান সমর্থক ফোরাম” নামের একটি ভেরিফায়েড পেজ পাওয়া যায়। এ পেজে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৯ মিনিটে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে তিনি জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এমন কোনো দাবি তাকে করতে দেখা যায় না।

সমীরণ দেওয়ানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ভিডিওতে তার কণ্ঠস্বরে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কিনা যাচাইয়ে ডিপফেক-ও-মিটারের সাহায্য নেয় ডিসমিসল্যাব। ফলাফল অনুযায়ী এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলে জানায় টুলটি। অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও দিয়ে সমীরণ দেওয়ানের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দাবিটি ছড়ানো হয়।