
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারকে হারিয়ে একমাত্র বেঁচে যাওয়া শিশু ফাইজা আক্তারকে দেখতে গিয়েছেন আমীরে জামায়াত— এই দাবিতে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একই ছবি ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদন। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিন্ন ছবি ব্যবহার করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে ছবিটি।
আকরাম মিজি নামের এক ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু ফাইজার একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার হারানো এই ছোট্ট মেয়ের সাথে হসপিটাল থেকে ফিরেই দেখা করছেন আমীরে জামায়াত। আরও বলা হয়েছে, “এত বড় ঘটনা হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কোন বড় মানুষ এই মেয়ের খোঁজ খবর নিতে যায় না। অথচ আমিরে জামায়েত অসুস্থ ছিল, কিছুক্ষণ আগে মাত্র হসপিটাল থেকে ফিরেই তার সাথে দেখা করল। ওখানে কি কথা হয়েছে এখনো সত্যটা জানা যায় না।”
এখন পর্যন্ত পোস্টটি ১৩ হাজার বারেরও বেশি শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্য করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার বারের বেশি। অনেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন জামায়াতের আমীরকে। আরেকজন লিখেছেন, “আমিরে জামাতের কাজ গুলো দেখলে মনে হয়। মানবতা এখনও বেচে আছে।”
একই ছবি একই দাবিতে শেয়ার করা হয়েছে ডাঃ শফিকুর রহমান,ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কাবির গ্রুপ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবির (বিআইসিএস), ডাঃ শফিকুর রহমান সমর্থক গ্ৰুপ নামের পাবলিক গ্রুপ থেকে। দাঁড়ি পাল্লা নামের এক প্রোফাইল থেকেও একাধিক পাবলিক গ্রুপে এটি শেয়ার করা হয়েছে।
দোয়েল নিউজ নামের এক অনলাইন গণমাধ্যম ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার শিরোনাম— “অসুস্থ শরীর নিয়েই সৌদি ট্র্যাজেডিতে মা-বাবা হারানো সেই শিশুর পাশে আমিরে জামায়াত”। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, “হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাসায় না ফিরে তিনি সরাসরি চলে যান শিশুটির কাছে। তাকে বুকে টেনে নেন এবং দীর্ঘক্ষণ তার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।”
কিফ্রেম সার্চে একুশে টিভির একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে শিশু ফাইজা আক্তারের সঙ্গে জামায়াত আমীরের পরিবর্তে ভিন্ন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। ছবিতে ফাইজা আক্তারের পোশাক, হাতের ব্যান্ডেজ, বিছানার চাদর, পেছনের দেয়াল ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

সত্যতা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল “সিন্থ-আইডি” (SynthID) ব্যবহার করে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না জানতে চাওয়া হয়। জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার জানায়, ছবির পুরো অথবা আংশিক গুগলের এআই টুলের সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআইঅরনট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

তাছাড়া, সৌদি আরবের এ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু ফাইজা আক্তারকে জামায়াত আমীরের দেখতে যাওয়ার সংবাদ কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
অর্থাৎ, সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় পরিবার হারানো ফাইজার সঙ্গে জামায়াত আমীরের দেখা করার ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের আবহা শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের চারজনসহ পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে বেঁচে যায় শিশু ফাইজা আক্তার।