তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check reveals the viral Facebook image claiming a massive Jamaat-e-Islami rally led by Amir Dr. Shafiqur Rahman was created using Google AI tools, not a real public gathering.

জামায়াত আমীরের জনসভার ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

জামায়াত ইসলামীর জনপ্রিয়তার প্রমাণে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি জনসভার ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি গুগলের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মডেল দিয়ে তৈরি।

ফেসবুকের একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “জামায়াতের জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপি এখন দিশেহারা হয়ে গেছে।” পোস্টে একটি জনসমাবেশের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। জনসমাবেশে এক ব্যক্তিকে মাথায় টুপি, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি এবং ধূসর রঙের কটি পরে ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “ইনশাআল্লাহ দাঁড়ি পাল্লার বিজয় হবে এবার”। আরেকজন লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ জামাতের বিজয়।” পোস্টটি ২৭০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

একই ছবি পোস্ট হতে দেখা গেছে আরও বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে (, )।  

কিফ্রেম সার্চে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ২৪ জানুয়ারির এক পোস্টে কাছাকাছি একটি ছবি পাওয়া যায়। যাচাই করা ছবির সঙ্গে এই ছবিতে উপস্থিত জামায়াত আমীরের পোশাকের ধরন ও রং, হাতের অবস্থান, সামনে ডায়াসের ওপর তোয়ালে ও ব্যানারের রং ও লেখা, সংবাদমাধ্যমের বুমের রং মিলে যায়।

পোস্টে লেখা, “আজ ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল ১১.০০টায় গাইবান্ধায় বিশাল নির্বাচনী জনসভায় সম্মানিত আমীরে জামায়াত উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন”।

২৪ জানুয়ারি একাধিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনেও (, , ) সেদিনের জনসভার একই ধরনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। জনসভায় জামায়াত আমীরের বক্তব্য লাইভ সম্প্রচার করেছে প্রথম আলো। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটে বাংলাদেশ লেবার পার্টি যোগ দেওয়ায় তা ১১ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে।

তবে যাচাই করা ছবির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ছবি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও-এর মধ্যে জনসভার আকারে বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সেই জনসভাকে যাচাই করা ছবিতে বহুগুণে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। 

যাচাই করা ছবিতে একই দূরত্বে কয়েকজনের দেহের আকৃতি স্পষ্ট হলেও কয়েকজনের অস্পষ্ট, পেছনের বিশাল জনসমাবেশে সবার অবয়বে অস্পষ্টতাসহ কিছু অসঙ্গতি নজরে আসে ডিসমিসল্যাবের। কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল এআইঅরনট, হাইভ মডারেশনডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

ছবির সত্যতা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল “সিন্থ-আইডি” (SynthID) ব্যবহার করে এটি এআই দিয়ে তৈরি কি না জানতে চাইলে জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার জানায়, এই ছবিটি গুগলের এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্লেষণে SynthID ওয়াটারমার্ক ধরা পড়েছে, যা নিশ্চিত করে যে এই ছবির বেশিরভাগ বা পুরো অংশই গুগলের এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।

অধিকতর যাচাইয়ে ছবিটি গুগলের ‘সিন্থ-আইডি’ প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষায়িত শনাক্তকরণ টুলেও পরীক্ষা করা হয়। এই টুলটি ছবির ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক বিশ্লেষণ করে ভিজ্যুয়াল ফলাফল প্রদর্শন করে থাকে। পরীক্ষায় ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। সেখানে টুলের শনাক্তকরণের কনফিডেন্স লেভেল ছিল ‘খুবই বেশি’। ফলাফলের হিটম্যাপে ছবির ৯৪% এর বেশি অংশকেই নীল রঙের গ্রিড দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিন্থ-আইডির পরিভাষায় যার মানে হলো, ছবিগুলোর ওই নির্দিষ্ট অংশগুলো গুগল এআই টুলস ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি। 

অর্থাৎ, জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের জনসভার এই ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

আরো কিছু লেখা