তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check showing an AI-generated image falsely claiming a woman hugging Jamaat-e-Islami Ameer Dr. Shafiqur Rahman in Feni that went viral on Facebook

জামায়াত আমীরের সঙ্গে নারীর ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানে সঙ্গে “ফেনীর জড়িয়ে ধরা নারী” দাবিতে একটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি। 

মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগ নামের একটি পেজ থেকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানে সঙ্গে এক নারীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “আমি খারাপ মন্তব্য করবো না শুধু বলবো ফেনীতে জড়িয়ে দরা নারি নাকি বয়স্ক বৃদ্ধ” (বানান অপরিবর্তিত)। 

পোস্টটি শেখ হাসিনা নামের একটি পাব্লিক গ্রুপে পোস্ট করা হয়। পোস্টে কেউ মন্তব্য করেছেন, “এরা আলেম নয় এরা মিথ্যাবাদী এরা সমাজে মানুষের মাঝে হুজুক এবং গুজব রটিয়ে দেয় এদের ভিতরে কোরআনের কোন জ্ঞান নেই।” আরেকজন লিখেছেন, “এসব নিজের বউ ছাড়া জায়েজ নেই এত খারাপ চরিত্র হয় কেমনে আপনাদের।”

কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক গণমাধ্যমে ফেনীর ঘটনার প্রতিবেদন (, , ) পাওয়া যায়। জানা যায়, ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। সেখানে এক শহীদের মা আবেগপ্রবণ হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদনে শহীদের মায়ের পোশাকের সঙ্গে যাচাই করা ছবির মিল পাওয়া যায়। তবে মূল ভিডিওতে শহীদের মায়ের চেহারা নিকাবে ঢাকা থাকলেও এই ছবিতে তা নেই। ভিডিওতে পেছনের দুইজনের পোশাক অনেকটা মিলে যায়। তবে তাদের একজনের চেহারা‍য় ভিন্নতা নজরে আসে। অন্যদিকে মূল ভিডিওতে আরেকজনের দাঁড়ি থাকলেও ছবিতে তা অনুপস্থিত। তাছাড়া মূল ভিডিও-এর নারীর সঙ্গে ছবির নারীর উচ্চতার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল এআইঅরনট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

অর্থাৎ, ফেনীতে শহীদের মায়ের ঘটনার দাবিতে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে বানানো হয়েছে।

আরো কিছু লেখা