
তেল আসতে দেরি হওয়ায় ফিলিং স্টেশনেই রাত্রি যাপন করেন শত শত বাইকার— এই দাবিতে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে ছবিটি।
বাংলা নিউজ স্টেশন নামে সংবাদমাধ্যম পরিচয় দেওয়া একটি পেজ থেকে সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিটি সম্পর্কে ফেসবুক-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি ক্যাপশনে লিখেছে, “গভীর রাতের তেল আসার সংবাদ পেয়ে শত শত বাইকের সিরিয়াল, কর্তৃপক্ষ বলেছে তেল আসতে এখনো ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগবে। তাই ফিলিং স্টেশনেই অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছে। ২০০ টাকার তেলের জন্য কতটা সেক্রিফাইস, ঘর সংসার ফেলে রেখে ফিলিং স্টেশনেই রাত্রি যাপন করছে তারা।” পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “দুঃখ জনক দ্রুতগতিতে ব্যবস্হা না নিলে সরকারের ভাবমূর্তি নস্ট হবে তাই সুদৃস্টি কামনা করি” (বানান অপরিবর্তিত)।

একই ছবি পোস্ট করে সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, “এই দৃশ্য কি বাংলাদেশের ! পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা কি সরকার বাহাদুর টের পাচ্ছে !” এ পোস্টে তিন হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টটি অন্তত ৬০০ বার শেয়ার হয়েছে, মন্তব্য করা হয়েছে সাড়ে আট শর বেশি। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “উস্কানি ছাড়া পেটের ভাত হজম হয় না। আন্তর্জাতিক যুদ্ধের কারণে তৈলের সংকট, এখানে তো , একক সরকারের দোষ নাই , আপনাদের বিবেকের সমস্যা আছে”। আবার কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “সত্যি টা যাচাই করে পোস্ট করেন, পাইলেই চালায়ে দিয়েন না।”
একই ছবি পোস্ট করে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “তেল কিনার অপেক্ষায় তেলের পাম্পে রাস্তায় ঘুমিয়ে আছে দেশের মানুষ। এ যেন এক নতুন মবের মুল্লুক/মগের মুল্লুক! দুর্ভিক্ষের পথে দেশ!” এ পোস্টেও তিন হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল, শেয়ার হয়েছে আরও ৯১ বার। একজন মন্তব্য করেছেন, “এই ভোগান্তির শেষ কোথায়। জনবিস্ফোরণ যেদিন হবে সেদিন কেউ রক্ষা পাবানা,,”। অন্যদিকে অনেকে মন্তব্য করছেন, এটি এআই দিয়ে তৈরি।

অন্যদিকে “গাজীপুরে ৮১% পাম্প খোলা দাবি, মাঠে তেলের তীব্র সংকট” শিরোনামে একটি সংবাদে একই ছবি ব্যবহার করেছে দিনপত্র নামে অনলাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। একই ছবি ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব ও এক্সে। ওলভারিন আপডেট নামে এক্স একাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশে একটি ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী ভিড় করেছেন। জ্বালানি সংকটের অবনতিতে দীর্ঘ সারি ও চরম হাহাকার তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে অনেকেই রাতভর মাটিতে শুয়ে ঘুমিয়েছেন।”
ভালোভাবে লক্ষ করলে ছবিতে নানা অসঙ্গতি দেখতে পায় ডিসমিসল্যাব। ছবিতে দৃশ্যমান মোটর সাইকেল ও শুয়ে থাকা ব্যক্তির সারি অস্বাভাবিকভাবে বিন্যস্ত। তাছাড়া “পেট্রোল পাম্প বন্ধ” লেখার নিচের দুটি লাইন বিকৃত।
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল “সিন্থ-আইডি” ব্যবহার করে এটি এআই দিয়ে তৈরি কি না জানতে চাওয়া হয়। জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার জানায়, “এই ছবিটি গুগল এআই দ্বারা তৈরি বা এডিট করা হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে ছবিটিতে সিন্থআইডি ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা গেছে।” এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআই অর নট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

অর্থাৎ, তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের রাত্রি যাপনের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট, ফিলিং স্টেশন বন্ধ ও ভোগান্তির একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) প্রকাশিত হয়েছে।