নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check reveals that a viral Facebook photocard falsely claimed 67 percent of people believe an election without the Awami League would be illegal, using a real Innovation Consulting survey image taken out of context.

৬৭ শতাংশ জনগণের মতে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা হবে অবৈধ নির্বাচন - ভুয়া জরিপ প্রচার 

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

৬৭ শতাংশ জনগণের মতে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা হবে অবৈধ নির্বাচন – এমন দাবির একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ফটোকার্ডের ছবিটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের করা ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরার। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। এই জরিপের কোথাও ছড়িয়ে পড়া দাবির পক্ষে কিছু বলা হয়নি। 

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডে লেখা, “২০২৬ অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে নির্বাচন হলে সেটা অবৈধ হবে বলে ৬৭% শতাংশ জনগণের মত!।” এর নিচে লেখা, “আপনার মতামত কি?” ফটোকার্ডের উপরে ডানে তারিখ হিসেবে “৩১ জানুয়ারি ২০২৬” এবং বামে “আজকের নিউজ” উল্লেখ রয়েছে। 

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা হবে অবৈধ নির্বাচন! মতামত ৬৭% শতাংশ জনগণের!! আপনিও কি তাই মনে করেন?” কমেন্টে দেখা যায় অনেকেই জরিপটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “নৌকা ছাড়া নির্বাচন বৈধ হবে না।” আরেকজন লিখেছেন, “অবৈধ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি নির্বাচন দরকার।” 

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোরের ৩০ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সামনে আসে। ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটির হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ৬০ শতাংশ মানুষ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটগ্রহণের আভাস মিলেছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ওই জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।

প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়, “আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।” 

একাধিক (, , , ) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। প্রতিটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি ও ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ছবির মধ্যে মিল রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে জরিপটি নিয়ে ৩০ জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭% মানুষ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, জনগণের মধ্যে বিএনপির সমর্থন ততই পোক্ত হচ্ছে বলে হালনাগাদ জরিপ চালিয়ে দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইনোভেশন কনসাল্টিং। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’তে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির সমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। ‘পেপস’–এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল আরও দেখাচ্ছে, এই জরিপের আগের রাউন্ডগুলোয় যাঁরা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাঁদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঘুরে গেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।

এছাড়া ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ফেসবুক পেজে গত ৩০ জানুয়ারি জরিপটি নিয়ে একাধিক পোস্ট পাওয়া যায়। ২৯ জানুয়ারির একটি পোস্টে তারা পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভের ফলাফল তুলে ধরবে ৩০ তারিখে, এমন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ৩০ জানুয়ারিতে তারা ফলাফল তুলে ধরার লাইভটিও পোস্ট করে। 

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি সাম্প্রতিক একটি জরিপের যা ভুয়া দাবিতে প্রচার হচ্ছে।

অতীতেও একই প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা একটি ভুয়া জরিপ নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব। 

আরো কিছু লেখা